news

6/recent/ticker-posts

যাকাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

**যাকাত সম্পর্কে বিস্তারিত **

*যাকাত কি..?
*কখন ফরজ হয়..?
*কার উপর যাকাত ফরজ..?
*যাকাত দেওয়ার পরিমান কি..?
*কাদের কে দিতে হয়..?
*দেওয়ার ফজিলত কি..?
*না দেওয়ার পরিনতি কি..?

#যাকাত হলো আল্লাহ কতৃক ধনি বান্দাদের উপর গরিব বান্দাদের হক,যা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান,

#কোন মানুষের যদি নেসাব পরিমান সম্পদ থাকে,এবং তা যদি দীর্ঘ ১ বৎসর গচ্ছিত থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ফরজ,

#যাকাত ফরয হওয়ার শর্তসমূহ:
১। মুসলমান হওয়া।
২। প্রাপ্ত বয়স্ক (বালেগ) হওয়া।
৩। সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হওয়া।
৪। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।
৫। ঋণী না হওয়া।
৬। পূর্ণ স্বাধীন হওয়া।
৭। সম্পদ চন্দ্র মাসের হিসেবে এক বছর কাল স্থায়ী হওয়া।
৮। মালিকানা পরিপূর্ণ হওয়া।

#সব সম্পদের উপর জাকাত ফরয:
১। ৭.৫ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ অথবা ৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৫৩ গ্রাম রৌপ্য অথবা তার সমপরিমাণ নগদ টাকা বা ব্যবসায়ী সম্পদ ১ বৎসর পর্যন্ত মালিকানায় থাকলে।
২। উট-গরু-ছাগল (উট কমপক্ষে ৫টি হলে, গরু ৩০টি হলে, ছাগল বা ভেড়া ৪০টি হলে জাকাত ফরয হয়)।
৩। উশরী জমিনে উৎপাদিত ফসল ও ফল। যেমন: গম, যব, ছোলা, চাল, ডাল, খেজুর, আঙ্গুর, যায়তুন ইত্যাদি। কম হোক বা বেশি হোক জাকাত দেয়া ওয়াজিব।
৪। ব্যবসায় নিয়োজিত অর্থ সম্পদ।
উল্লেখ্য যে, সম্পদের মূল্যের ২.৫% হিসেবে জাকাত দিতে হবে।

#যাকাত দিতে হবে "আট" শ্রেণির লোকদের কে,

*যাকাত মোট ৮খাতে দেয়া জায়েজ।

১- ফকির।
২-মিসকিন।
৩-ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে।
৪-মুসাফিরের জন্য।
৫-জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ(ইসলামি আন্দোলনের কাজে)।
৬-দাসী মুক্ত করার জন্য।
৭-ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যেকোনো ধর্মের লোকের পিছনে টাকা ব্যায় করা।
৮-যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীকে।

বিঃদ্রঃ ঐ ৮ খাতে যাকাত দেয়ার প্রমাণ /দলীল দেখেনিন→সূরা তাওবা-আয়াত-৬০।

#যাকাত দেওয়ার ফজিলত হলো,
আল্লাহ তায়ালা বলেন:-আমি তোমাদের কে যা সম্পদ দিয়েছি তা থেকে কিছু পরিমান দিতে এত কার্পণ্য কেন.?
আর যাকাত দেওয়া মানে সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়া না,বাড়ন্ত উল্টা সম্পদ বেড়ে যাওয়া,
কারন তখন হারাম ও অকজো মাল,সম্পদ থেকে আল্লাজ তায়ালা এই সম্পদ কে পবিত্র করে দেন,

#কুরআন মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে:
“আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে অথচ তা আল্লাহর পথে (জাকাত) ব্যয় করে না, তাদেরকে শুনিয়ে দিন যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সংবাদ।
যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে দাগিয়ে দেওয়া হবে তাদের ললাট, পাজর ও তাদের পৃষ্ঠদেশ।
বলা হবে, এই সম্পদই তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখে ছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করে রাখতে তার স্বাদ গ্রহণ কর।” (সূরা তাওবা: ৩৪-৩৫)
--->হাদীস শরীফে আছে,হযরত মাসউদ (রাঃ) হতে বর্নিত,নবি (সঃ) বলেন,যদি কেউ সম্পদের যাকাত আদায় না করে তাহলে কিয়ামত এর দিন এই সম্পদ বিষধর সাপ হবে,এবং তার গলায় পেছিয়ে দেওয়া হবে,

No comments

Theme images by borchee. Powered by Blogger.