news

6/recent/ticker-posts

মানুষের মৃত্যুর পরের আমল,

আসসালামু আলাইকুম,
আমাদের আজকের বিষয় হচ্ছে,মৃত্যুর পর কোন আমল গুলো চালু থাকে,তা সম্পর্কে বিস্তারিত:-

মানুষের জীবনের দু’টি অধ্যায়, একটি দুনিয়ার জীবন অপরটি আখেরাতের জীবন। দুনিয়ার জীবনে যা আমল করবে তার প্রতিদান আখেরাতের জীবনে পাবে। যে দুনিয়ায় ভালো কাজ করবে, সে আখেরাতে এর উত্তম প্রতিদান পাবে, আর যে মন্দ কাজ করবে সেও এর বদলা পাবে।

আমরা জানি, মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার আমল করার কোনো ক্ষমতা থাকে না। তার সব আমল থেকে যায়। কিন্তু এমন কিছু আমল রয়েছে যেগুলো দুনিয়ার জীবনে করলে মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তি কবরেও সে আমলের সওয়াব পেতে থাকেন।

**এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে হয়েছে, আমিই তো মৃতকে জীবিত করি, আর লিখে রাখি যা তারা পূর্বে প্রেরণ করে এবং যা পিছনে রেখে যায়। আর প্রতিটি বস্তুকেই আমি সুষ্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি। -সূরা ইয়াসিন : ১২

**হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত নবী করিম  (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩টি আমল বন্ধ হয় না- (১). সদকায়ে জারিয়া, (২). এমন জ্ঞান (ইলম)- যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হওয়া যায় ও (৩). এমন নেক সন্তান- যারা তার জন্য দোয়া করে।–জামেয়া,তিরমিজি ৩/৬৬০

যেসব আমলের সাওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকবে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

**আবু উমামাতা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর ৪টি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে- ১. যে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিল তার সওয়াব, ২. ভালো কাজ চালু করার ফলে তাকে যারা অনুসরণ করল তার সওয়াব, ৩. যে ব্যক্তি এমন সদকা করলো, যা প্রবাহমান থাকে তার সওয়াব, ও ৪. এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া- যে তার জন্য দোয়া করে। -মুসনাদ আহমাদ : ২২২৪৭

মসজিদ নির্মাণ ও কোরআনে কারিম বিতরণ করা : কোরআনে কারিমে মসজিদকে হেদায়েতের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, 
**হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করবেন। -সহিহ মুসলিম : ১২১৮

**এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর কবরে ৭টি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে- ১. যে ইলম শিক্ষা দিল, ২. যে পানি প্রবাহিত করল, ৩. কূপ খনন করল, ৪. খেজুর গাছ লাগালো (গাছ রোপন),  ৫. মসজিদ তৈরি করল, ৬. কোরআনে কারিম বিতরণ করল ও ৭. এমন নেক সন্তান রেখে গেল- যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। -মুসনাদুল বাজ্জার :৭২৮৯

**হজরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো বৃক্ষরোপণ করে, আর তা থেকে কোনো ফল ব্যক্তি খায় তবে সেটি তার জন্য সদকা, কোনো হিংস্র প্রাণী খেলেও তা তার জন্য সদকা, যদি কেউ চুরি করে খায় তাও তার জন্য সদকা, কোনো পাখিও খায় তাও তার জন্য সেটি সদকা। এমনকি যদি কেউ তা কেটে ফেলে তাও সেটি তার জন্য সদকা। -সহিহ মুসলিম : ৪০৫০

**এছাড়া অভাবগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়া, খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা, সীমান্ত রক্ষা করা, প্রবাহিত পানির ব্যবস্থা করা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া দ্বীনী কিতাবাদী রচনা করা।

**পিতামাতার বাধ্য সন্তান,যে বেঁচে থাকা অবস্থায় তাদের খেদমত করেছে,এবং,মৃত্যুর পরেও পিতামাতার জন্য একইভাবে দোয়া করবে,

**এমন এলেম যা মানুষের আমলে পরিবর্তন হয়,বা,পাঠ করে,ভালো কিছু শিখে সাওয়াব অর্জন করে,
তাহলে যে শিক্ষা দিবে সেও সমান সাওয়াব পাবে,
কিন্তু আমল কারির আমল থেকে একটুও কমানো হবে না,

মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকার বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কমতি হবে না। -সহিহ মুসলিম :

Visit this topic video,

https://youtu.be/LBldmiL0bIw

No comments

Theme images by borchee. Powered by Blogger.